খেলাধুলা

গ্লাসগোয় শুরু হচ্ছে গতির মহাযুদ্ধ

স্টেডিয়ামের আলো এখনো নেভানো। বাতাসে শোনা যাচ্ছে পায়ের শব্দ, ট্র্যাকের লাল মাটিতে জমছে উত্তেজনা। কেউ মাপছেন নিজের গতি, কেউ গুনছেন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। আর অপেক্ষা নেই গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে শুরু হতে যাচ্ছে গতির সবচেয়ে বড় লড়াই।

সোমবার থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত স্কটস্টাউন স্টেডিয়াম হয়ে উঠবে বিশ্বের দ্রুততম মানুষদের ঠিকানা। ছয় দিন ধরে চলবে অ্যাথলেটিকস ও প্যারা অ্যাথলেটিকসের লড়াই। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে থাকবে প্রায় ৬০টি পদকের হিসাব, যার মধ্যে রয়েছে ৪৩টি মূল অ্যাথলেটিকস ইভেন্ট।

এই মহাযুদ্ধে বাংলাদেশেরও থাকছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মুখ। পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দেশের দ্রুততম অ্যাথলেট ইমরানুর রহমান এবং নারীদের স্প্রিন্টে শিরিন আক্তার লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করবেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা পেরিয়ে তাদের এই মঞ্চে ওঠাই বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসের জন্য বড় প্রাপ্তি।

চার বছর পর আবার কমনওয়েলথের মঞ্চে ফিরছে গতির এই উৎসব। ৭৪টি দেশ ও অঞ্চলের তিন হাজারের বেশি অ্যাথলেটের এই আসরে অ্যাথলেটিকসই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি আলো ছড়ানো অধ্যায়গুলোর একটি।

সবচেয়ে বেশি চোখ থাকবে স্কটল্যান্ডের নিজের ঘরের ছেলে জশ কেরের দিকে। গ্লাসগোর মাটিতে তিনি নামবেন নিজের শহরের মানুষের সামনে ইতিহাস লেখার লক্ষ্যে। এক মাইল দৌড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়ে ইতিমধ্যেই তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। গ্লাসগোয় ফিরছে ঐতিহাসিক কমনওয়েলথ মাইল, আর সেই গল্পের নায়ক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কের।

কেরের সঙ্গে মধ্যম দূরত্বের লড়াইয়ে থাকবেন জেক ওয়াইটম্যান, নিল গোরলি, জেমা রিকি এবং স্কটল্যান্ডের আরেক আবেগের নাম আইলিশ ম্যাককলগান। ঘরের দর্শকদের সামনে ম্যাককলগান নামবেন নিজের সেরা পারফরম্যান্সের সন্ধানে।

১০০ মিটার স্প্রিন্টে থাকবে অন্যরকম উত্তেজনা কয়েক সেকেন্ডের এই লড়াইয়ে সামান্য ভুলই কেড়ে নিতে পারে স্বপ্নের স্বর্ণ। বিশ্বের দ্রুততম দৌড়বিদদের মধ্যে নাইজেরিয়া, কেনিয়া, ইংল্যান্ড ও জ্যামাইকার তারকারা মুখোমুখি হবেন। পুরুষদের স্প্রিন্টে যেমন থাকবে গতি আর বিস্ফোরণের লড়াই, নারীদের স্প্রিন্টেও থাকবে সমান বিশ্বমানের প্রতিযোগিতা।

বাংলাদেশের দর্শকদের নজর থাকবে ইমরানুর রহমানের দৌড়েও। চোট কাটিয়ে ফেরা এই স্প্রিন্টার নিজের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয়ে নামবেন ট্র্যাকে। অন্যদিকে শিরিন আক্তারের লক্ষ্য হবে ব্যক্তিগত সেরা টাইমিংয়ের কাছাকাছি পৌঁছে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসকে নতুন অনুপ্রেরণা দেওয়া।

জ্যাভেলিনে জমবে অন্য এক মহারণ। ভারতের নীরজ চোপড়া ও পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমের লড়াই ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে। দুই দেশের দুই অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নের এই মুখোমুখি হওয়া উপমহাদেশের আবেগেরও গল্প।

ট্র্যাকের বাইরে ফিল্ড ইভেন্টেও থাকবে তারার মেলা। লং জাম্প, হাই জাম্প, শটপুট, ডিসকাস ও জ্যাভেলিনে হবে বিশ্বমানের অ্যাথলেটদের লড়াই কেউ নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করবেন, কেউ তৈরি করবেন নতুন পরিচয়।

প্যারা অ্যাথলেটিকসও এবার পাচ্ছে আলাদা গুরুত্ব। কমনওয়েলথের মঞ্চে প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে যারা ট্র্যাকে নামবেন, তারাই হবেন অনুপ্রেরণার গল্প। পদকের চেয়েও বড় হয়ে উঠবে মানুষের সীমা ভাঙার সাহস।

গ্লাসগোর সঙ্গে অ্যাথলেটিকসের সম্পর্কও পুরোনো। ২০১৪ সালের কমনওয়েলথ গেমসে এই শহর পরিণত হয়েছিল উৎসবে। এবার আবার ফিরছে সেই আবেগ পুরোনো স্মৃতি, নতুন তারকা আর নতুন স্বপ্নে প্রস্তুত স্কটল্যান্ডের এই শহর।

অ্যাথলেটিকস আসলে নিজের সঙ্গে নিজের লড়াই। স্টার্টিং ব্লকের কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা, বন্দুকের শব্দের পর বজ্রগতির ছুটে চলা, ফিনিশিং লাইনে চোখের জল এই ছোট ছোট মুহূর্তেই তৈরি হয় বড় ইতিহাস।

গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত অধ্যায় শুরু হচ্ছে সোমবার। স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে বাতাসও যেন দৌড়াবে অ্যাথলেটদের সঙ্গে। কেউ জিতবেন স্বর্ণ, কেউ ভাঙবেন রেকর্ড, কেউ হারবেন কিন্তু প্রত্যেকেই রেখে যাবেন একটি গল্প।

সেই গল্পে হয়তো পদকের রং থাকবে না বাংলাদেশের। তবু ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তারের প্রতিটি স্টেপে থাকবে দেশের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর এগিয়ে যাওয়ার সাহস।

আর সেই গল্পের প্রথম শব্দটি হবে গতি।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel