দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে প্রায় চার মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার। এতে জটিল প্রসবের ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রসূতি মা ও তাঁদের স্বজনেরা। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত থাকলেও প্রয়োজনীয় কনসালট্যান্ট না থাকায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে প্রসবের জন্য ১৬০ জন নারী এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি রোগীদের মধ্যে ৯৮ জনের স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। তবে অবশিষ্ট ৩৬ জনের প্রসবসংক্রান্ত পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বাভাবিক প্রসবের সেবা চালু থাকলেও সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকায় জটিল পরিস্থিতিতে প্রসূতিদের অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে জরুরি সময়ে রোগী স্থানান্তর, যাতায়াত এবং চিকিৎসার অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে উদ্বেগে পড়ছেন স্বজনেরা। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত এলাকার পরিবারগুলোকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় রোগীদের এ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি পার্শ্ববর্তী পাঁচটি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। প্রতিদিন এখানে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপের মধ্যে প্রসূতিদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা হাসপাতালটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রিয়াঙ্কা কুন্ডু বলেন, গত তিন মাসে প্রসবের জন্য ১৬০ জন নারী হাসপাতালে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনকে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ৯৮ জনের স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রয়েছে। তবে কনসালট্যান্ট না থাকায় জুন মাস থেকে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে।”
প্রিয়াঙ্কা কুন্ডু আরও বলেন, অপারেশন থিয়েটার চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তাঁরা কনসালট্যান্ট দিতে পারছেন না।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার পুনরায় চালু করা হোক। তাঁদের মতে, সরকারি হাসপাতালে এ সেবা চালু হলে প্রসূতি মা ও নবজাতকের জরুরি চিকিৎসা পাওয়া সহজ হবে। একই সঙ্গে অন্য হাসপাতালে যেতে গিয়ে যে ভোগান্তি ও বাড়তি ব্যয় হয়, তা কমবে।
প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ প্রসবসেবা নিশ্চিত করতে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং বন্ধ থাকা সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।