রংপুর বিভাগ

নীলফামারীর জলঢাকায় আশ্রয়ন প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ ঘরই তালাবদ্ধ

নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় বিগত সরকারের সময়ে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করার জন্য প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন -২ প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মাণ করা হয়েছিল পাকা ও টিন সেট ঘর। কিন্তু নির্মাণের কয়েক বছর পরও সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ ঘরই পড়ে আছে তালাবদ্ধ । বসবাস করছে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ মানুষ । এদিকে উপকারভোগী বাছাইয়ে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ স্থানীয়দের। জমি, ঘর সবই আছে। নেই শুধু থাকার মানুষ। এ চিত্র উপজেলায় বিভিন্ন আশ্রয়ন প্রকল্পের।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও জানাযায়, উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের গড় ধর্মপাল এলাকার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন – ২ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৯-২০ সালে ১৫২ টি টিন সেট ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘর নির্মানে ব্যয় হয় দুই লাখ টাকা। উপকার ভোগীদের বুঝিয়েও দেয়া হয় এসব ঘর। কিন্তু নির্মাণের কয়েক বছর পরও সেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৫২ টি টিন সেট ঘরের মধ্যে ১৩৫টি ঘরই পড়ে আছে তালাবদ্ধ । আর বসবাস করছে মাত্র ১৭ টি পরিবার।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাকা ও টিন সেট অনেক ঘর বর্তমানে তদারকি ও সংস্কারের অভাবে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় জনশূন্য ও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

বিশেষ করে উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের বালাপাড়া,ধর্মপাল ইউনিয়নের গড় ধর্মপাল আশ্রয়ণ প্রকল্প সহ বেশ কিছু স্থানে সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এসব ঘরের একটি বড় অংশ পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ,উপকার ভোগী নির্বাচনে অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজন প্রীতির কারণে প্রকৃত গৃহহীনরা বঞ্চিত।আর বরাদ্দ পাওয়া অনেকেরই রয়েছে নিজস্ব বাড়ি সহ জমি। এদিকে প্রকল্পের জমি নিয়ে বিরোধ ও জনমানবহীন স্থানে অবস্থান হওয়াও ঘর খালি পড়ে থাকার অন্যতম কারণ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আশ্রয়হীন পরিবার গুলোকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হলেও নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। পরিত্যক্ত ঘর ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় সেগুলো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। তারা আরও জানান, অনেক পরিবার প্রকল্প ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের পরিত্যক্ত ঘরগুলো সংস্কারের পাশাপাশি ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।

ধর্মপাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, প্রকল্পটিতে বসবাসের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হলে অসহায় পরিবারগুলো নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাসের সুযোগ পাবে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাহিদুজ্জামান বলেন, ‘ঘর পেয়ে যারা থাকছেন না, তাদের বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন। অন্যথায় প্রকৃত গৃহহীনদের পুনর্বাসন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর গুলোতে বসবাসের উপযোগী করতে তদারকি শুরু করবো।এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...