পরিত্যক্ত বোতল, লোহা, প্লাস্টিক বর্জ্য, ছেঁড়া স্যান্ডেল ও পুরোনো জুতা—যেগুলো অনেকের কাছে অপ্রয়োজনীয়, সেগুলোই এখন অনেকের জীবিকার উৎস। রাজশাহী নগরীতে গড়ে উঠেছে ভাঙারি ব্যবসার বড় একটি ক্ষেত্র। এ ব্যবসার মাধ্যমে একদিকে যেমন আয় করছেন ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে কর্মসংস্থান হচ্ছে বহু মানুষের। পাশাপাশি পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহ ও বিক্রির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন থাকছে পরিবেশ।
রাজশাহী নগরী ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে শতাধিক ভাঙারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ছিন্নমূল অথবা নিম্ন আয়ের মানুষেরা বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও রাস্তাঘাট থেকে সংগ্রহ করেন পরিত্যক্ত বোতল, লোহা, প্লাস্টিক, পুরোনো জুতা-স্যান্ডেলসহ নানা ধরনের বর্জ্য। এসব সামগ্রী কিনে বাছাই করার পর বিক্রি করা হয় বিভিন্ন ক্রেতা ও পুনর্ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে।
ফেলে দেওয়া এসব সামগ্রীই হয়ে উঠেছে অনেক মানুষের আয়ের উৎস। ছোট পরিসরে শুরু করা এ ব্যবসা থেকে কেউ কেউ মাসে লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
নগরীর কোর্ট স্টেশন এলাকার চারখুটা মোড়ে এমনই একটি ভাঙারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন সুজন আলী। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ পরিত্যক্ত সামগ্রী কেনেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন আটজন শ্রমিক। ভাঙারি দোকানে পুরোনো বোতল, লোহা, প্লাস্টিক ও জুতা-স্যান্ডেল স্তূপ করে রাখা হয়। শ্রমিকদের মালামাল বাছাই, ওজন ও পরিবহনের কাজ করে।
তার দোকানের শ্রমিক আবদুল লতিফ বলেন, রাজশাহী নগরীসহ পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে আমরা ভাংড়ী মাল কিনে এখানে বিক্রি করি। এতে আমাদের কিছু লাভ হয়। সুজন ভাই পাইকারী দরে বিক্রি করে লাভ করছেন। দিনে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকার মালামাল ক্রয় বিক্রি হয়। এভাবেই চলছে আমাদের সংসার।
আরেক ব্যবসায়ী ইমরান আলী বলেন, প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ হাজার টাকার মালামাল কিনি। এসব মালামাল বিক্রি করে মাসে প্রায় লাখ টাকা আয় হয়। আমার কারখানায় ১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। এই ব্যবসার মাধ্যমে নিজের সংসার চালানোর পাশাপাশি কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পেরেছি।
শুধু কোর্ট স্টেশন এলাকাই নয়, রাজশাহীর বায়া এলাকাতেও গড়ে উঠেছে এ ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। পরিত্যক্ত সামগ্রী সংগ্রহ ও বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরাও। মানুষের ফেলে দেওয়া সামগ্রী সংগ্রহ করে বিক্রির উপযোগী করার মধ্য দিয়ে একদিকে আয় হচ্ছে, অন্যদিকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য পরিবেশে জমে থাকার পরিমাণও কমছে।
শ্রমিক কোরবান আলী বলেন, এখানে কাজ করে দিনে ৫০০ টাকা পায়। মানুষের ফেলে দেওয়া বোতল, লোহা, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন সামগ্রী সংগ্রহ করে বিক্রি করি। এসব বর্জ্য কাজে লাগানোর ফলে আমাদেরও লাভ হচ্ছে, আবার পরিবেশের জন্যও উপকার হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে পরিবেশের ওপর চাপ কমানো সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে বর্জ্য পৃথকীকরণ, নিরাপদ সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
রাজশাহীতে ভাঙারি ব্যবসার পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হচ্ছে স্বনির্ভরতার সুযোগ। যথাযথ পরিকল্পনা ও সহযোগিতা পেলে এ খাত হয়ে উঠতে পারে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম মাধ্যম।
পরিত্যক্ত বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে রাজশাহীর ভাঙারি ব্যবসায়ীরা যেমন নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করছেন, তেমনি অবদান রাখছেন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো গেলে উপকৃত হতে পারে নগরবাসীও।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।