রাজশাহী

বগুড়ার ২.৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে মতবিনিময়সভা

বগুড়া শহরের যানজট নিরসন ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে চারমাথা থেকে নূরানী মোড় হয়ে কামারগাড়ী রেলঘুমটি পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিতে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ করতোয়ায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।

সভায় রেজাউল করিম বাদশা শহরের আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে দূরদর্শী পরিকল্পনা করার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, চারমাথা থেকে কামারগাড়ী পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে শহরের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাইপাস দিয়ে ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ, স্টেডিয়াম রোড প্রশস্তকরণ এবং শহরকে যানজটমুক্ত করতে সমন্বিত পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

রাজশাহীর মতো সুন্দর শহরের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বগুড়াকে দৃষ্টিনন্দন করতে সড়ক প্রশস্তকরণের জন্য অন্তত ৬ ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা তৈরির আহ্বান জানান সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিল্ডার ও সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি।

সভায় প্রকল্পের বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) বগুড়া জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুরুজ মিয়ার নেতৃত্বে নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক। তাঁরা জানান, ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চার লেনে উন্নীত করতে প্রায় ২৯৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রকল্পের জন্য ১ দশমিক ৯৮ হেক্টর ব্যক্তিমালিকানাধীন এবং ২ দশমিক ০৬ হেক্টর সরকারি জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

প্রকল্পে সড়কের মিডিয়ান, ড্রেন, ফুটপাত, বাস-বে, ইউ-লুপ, ট্রাক ওভারপাস ও সৌরবিদ্যুৎচালিত আলোর ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বগুড়ায় প্রথমবারের মতো মাটির নিচে ইউটিলিটি ডাক্ট নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও ক্যাবল লাইন স্থানান্তর করা হবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ারুল আলম বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বগুড়ায় একের পর এক বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

মতবিনিময় পর্বে অংশীজনেরা তাঁদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন। বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল হামিদ মিটুল নূরানী মোড় থেকে ব্যাটালিয়ন এলাকা পর্যন্ত রেলওয়ের জায়গা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন। এতে সাধারণ ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি রক্ষা পাবে বলে তিনি মত দেন।

বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আতিকুর রহমান বাদল চার লেনের সড়কটি দত্তবাড়ি হয়ে চেলোপাড়া ব্রিজ ও দ্বিতীয় বাইপাস পর্যন্ত এবং স্টেডিয়াম পর্যন্ত সম্প্রসারণের দাবি জানান। এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক প্রকৌশলী এম এস এ মাহমুদ কয়েকটি সড়ক একমুখী করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে ইউটিলিটি ডাক্টে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ লাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কারিগরি বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানান, অংশীজনদের দেওয়া যৌক্তিক মতামত সওজ ও কারিগরি কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করে নকশায় অন্তর্ভুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জনস্বার্থ ও শহরের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করে প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার আশাবাদ ব্যক্ত করে সভা শেষ হয়। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...