রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মহালানপাড়া গ্রামে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পবিত্র স্থান মাঞ্জহি থান দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাঁওতালদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসে বুধবার (৪ নভেম্বর) থেকে আবার মাঞ্জহি থান প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন তাঁরা।
গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নের মহালানপাড়া গ্রামে ৩৫টি সাঁওতাল পরিবারের বসবাস। গ্রামের সাঁওতালরা বহু বছর ধরে মাঞ্জহি থানের পাশে প্রায় চার কাঠা জমিতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।
সাঁওতালদের অভিযোগ, সৈয়দপুর গ্রামের ইসমাইল সরকার ও তাঁর ভাই ইব্রাহিম সরকার ওই জায়গা দখলের চেষ্টা করছেন। তাঁদের দাবি, মাঞ্জহি থানটি ২৪ নম্বর দাগে অবস্থিত। এর পাশে ইসমাইল সরকার ক্রয়সূত্রে ৫৯ নম্বর দাগের চার বিঘা জমির মালিক। মাঞ্জহি থানের জমিটি আলাদা বেড়া দিয়ে ঘেরা ছিল।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত সোমবার ইসমাইল সরকার ও তাঁর ভাই ইব্রাহিম সরকার ট্রাক্টর দিয়ে মাঞ্জহি থানের জমির বেড়া ভেঙে সেখানে জমি দখলের চেষ্টা ও ভাঙচুর চালান। ঘটনার সময়ই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে তাঁর নির্দেশে কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসমাইল সরকারকে জমি দখলে বাধা দেয়। পরদিন সাঁওতালদের পক্ষে সুখেন মার্ডি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
মাঞ্জহি থান সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উপাসনার পবিত্র স্থান। সাধারণত গ্রামের নির্দিষ্ট স্থানে কোনো পবিত্র গাছকে কেন্দ্র করে এটি গড়ে ওঠে। সেখানে সাঁওতালরা নিজেদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী পূজা-অর্চনা, প্রার্থনা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আচার পালন করেন। এটি তাঁদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ।
মহালানপাড়া গ্রামের সাঁওতালরা জানান, জেলা প্রশাসক তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন যে মাঞ্জহি থান কেউ দখল করতে পারবে না। এ আশ্বাসের পর তাঁরা বুধবার থেকে পবিত্র স্থানটি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন।
বুধবার সকালে কাজটি পরিদর্শন করেন সেন্টার ফর ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অব ভলান্টারি অর্গানাইজেশনের (সিসিবিভিও) নির্বাহী প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা সারওয়ার-ই-কামাল এবং মানবাধিকারকর্মী আরিফ ইথার।
সারওয়ার-ই-কামাল বলেন, উপাসনালয় ভাঙচুর কেবল অপরাধ নয়, এটি আদিবাসীদের অস্তিত্ব ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বড় আঘাত। প্রশাসনের দেওয়া আশ্বাসের দ্রুত ও দৃশ্যমান বাস্তবায়ন দেখতে চান তাঁরা। আদিবাসী সম্প্রদায়ের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও নিরাপত্তার লড়াইয়ে আইনি সহযোগিতার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
অভিযুক্ত ইসমাইল সরকারের সঙ্গে কথা বলতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর স্ত্রী ফোন ধরে জানান, ইসমাইল সরকার কথা বলবেন না।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, সাঁওতালরা গাছের নিচে একটি পাথর রেখে ধর্মীয় আচার পালন করেন। সেটিই তাঁদের পবিত্র স্থান। সাঁওতালরা যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন, সে জন্য ইউএনও ও পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই জায়গা কেউ দখল করতে পারবেন না।
গোদাগাড়ীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, মাঞ্জহি থান পুরোপুরি ভাঙেনি এবং এটি কোনো স্থাপনাও নয়। তাই এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে যিনি ওই জমি চাষ করতে গিয়েছিলেন, তাঁকে এ ধরনের কাজ আর না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে একই ঘটনা ঘটালে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।