বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মো. তৌফিক (২১)। পরিবারের অভাব ঘোচাতে পড়াশোনা ছেড়ে গাজীপুরে গিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। নিজের উপার্জনে চালাতেন সংসার। তবে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলনে গিয়ে আর ঘরে ফেরা হয়নি তার। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর বুধবার (৪ নভেম্বর) বাবার কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার সকাল ১০টায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামে তৌফিকের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তৌফিক ছয়ঘরিয়া গ্রামের মো. তৈয়বুর রহমানের ছেলে। তিনি গাজীপুরের লায়লা স্টাইল গার্মেন্টস লিমিটেডে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তৌফিকের কাঁধে। মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষ করার আগেই এক বন্ধুর মাধ্যমে গাজীপুরে গিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন। নিজের উপার্জন দিয়ে পরিবারের খরচ চালাতেন তিনি। এরই মধ্যে তার সংসারে সন্তানও আসে।
গত কয়েক দিন ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছিল। ওই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন তৌফিক। গত সোমবার আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হন তৌফিক।
পরে সহকর্মী ও আন্দোলনরত শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার উত্তরার শিনশিন জাপান হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
তৌফিকের বড় ভাই মো. হারুন বলেন, যে বয়সে পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তৌফিক। তার মৃত্যুতে পরিবার উপার্জনের অন্যতম অবলম্বন হারিয়েছে।
স্বজন ও স্থানীয়রা এই কঠিন সময়ে তৌফিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বুধবার সকাল ১০টায় তৌফিকের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়েছে।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।