বিশ্ব

ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে ২২.৯ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে রেথিয়নকে ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের ( প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার ১৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা) একটি চুক্তি দিয়েছে। সোমবার দেশটির যুদ্ধ দপ্তর এ চুক্তির ঘোষণা দেয়।

রেথিয়ন হলো মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানি আরটিএক্সের একটি প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘ পাল্লার হামলায় ব্যবহৃত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা শক্তিশালী করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত কিছু ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

এর মধ্যেই টমাহক উৎপাদন বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হলো। যুদ্ধ দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির মাধ্যমে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা ব্যবহারে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা আরো বাড়বে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র উৎপাদন খাতের সামগ্রিক সক্ষমতাও বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

যুদ্ধ দপ্তরের অধিগ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি মাইকেল পি. ডাফি বলেন, অস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে তারা প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। আরটিএক্স সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। ডাফি বলেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের এই চুক্তি মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহের সক্ষমতা বাড়াবে। এর ফলে মার্কিন সেনারা সমান শক্তির প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় প্রয়োজনীয় অস্ত্রের ঘাটতিতে পড়বে না। যুদ্ধ দপ্তর জানিয়েছে, চুক্তিটি প্রতিরক্ষা শিল্পের অংশীদারদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীলতা দেবে। এর ফলে কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ করতে, উৎপাদনের গতি বাড়াতে এবং সরবরাহব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে পারবে।

এই চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ দপ্তরের অস্ত্র সংগ্রহের নতুন কৌশলও বাস্তবায়ন করা হবে। এর লক্ষ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র দ্রুত সংগ্রহ করা এবং অস্ত্র কেনার পুরো প্রক্রিয়ায় যে সময় লাগে, তা কমিয়ে আনা। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও বলেন, এই বিনিয়োগের ফলে নৌবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর হাতে দেশের নিরাপত্তা রক্ষা এবং সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র থাকবে। তিনি বলেন, ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত উৎপাদন ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ ত্বরান্বিত করবে। কাও আরো বলেন, অস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হচ্ছে। বর্তমান সামরিক অভিযানের প্রয়োজন মেটাতে সব ধরনের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টেও কাও দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতকে অস্ত্রের উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছিল এবং আরটিএক্স সেই কাজ করছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই টমাহক চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হলো। সিএনএনের এক প্রতিবেদনে একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর কমান্ডাররা কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত খুব কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত প্রতিহতকারী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে তাদের উদ্বেগ রয়েছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘপাল্লার হামলার সক্ষমতা শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই চুক্তির মাধ্যমে দেশটির বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন সক্ষমতাও বাড়ানো হবে।

মার্কিন নৌবাহিনীর অস্ত্র সংগ্রহ বিভাগের একটি বিশেষ দপ্তর নৌবাহিনীর অস্ত্র ও হামলার সক্ষমতা উন্নয়ন, অস্ত্র কেনা এবং সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছে। এই ব্যবস্থার অধীনে নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র কর্মসূচিগুলোকে এক জায়গায় আনা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো অস্ত্র উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো এবং প্রয়োজনের সময় মার্কিন নৌবহরের হাতে পর্যাপ্ত অস্ত্র নিশ্চিত করা। বিশেষ করে সামরিক অভিযান পরিচালনা ও শক্তি প্রদর্শনের সময় নৌবাহিনীর প্রয়োজনীয় অস্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে ২২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের টমাহক চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার সময় এই চুক্তির ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel