জাতীয়

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুনে ১০ মরদেহ উদ্ধার, নিহতদের ছয়জন একই পরিবারের স্বজন

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রেস্তোরাঁ ও রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের তিনজনসহ ছয়জন নিকটাত্মীয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিশু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও আছেন। এ ঘটনায় আহত সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনো কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পাটুয়ারটেক সৈকত এলাকায় অবস্থিত টুপটুপ রেস্তোরাঁ অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। কাঠের তৈরি তিনতলা ভবনটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ চেষ্টার পর সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। পরে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান জানান, উদ্ধার করা মরদেহগুলোর বেশির ভাগই আগুনে পুড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকজনের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলা, তাঁর তিন বোন ফারিয়া কবির (৩৩), ইসরাত জাহান মালিহা (৩০) ও ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩)। এ ছাড়া পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান নূর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ তেহামীও নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯) ঢাকার আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম নামের আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

নাফিজের পরিবারের নয়জন সদস্য কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন প্রাণে বেঁচে গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে রিসোর্টে থাকা পর্যটকেরা প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করেন। কয়েকজন দরজা-জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসেন। কেউ কেউ ভবন থেকে লাফ দিয়েও প্রাণে বাঁচার চেষ্টা করেন।

আহত সাতজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শিহাব সাদি (৩১) ও তাঁর স্ত্রী নাফিজা (২৯), আবদুল মান্নান (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী ফাহমিদা (৩২), মুহাম্মদ মাসুদ (৩৩) ও তাঁর স্ত্রী মেহেরুন্নেসা রোমি (৩০) এবং আশিক (২৮) রয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার দোলন আচার্য্য জানান, সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে তাঁরা অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। সকাল ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও অন্যান্য উদ্ধারকর্মী অংশ নেন।

প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহাব উদ্দিন জানান, পাটুয়ারটেক এলাকায় অবস্থিত রেস্তোরাঁটি যৌথভাবে গড়ে তুলেছিলেন চট্টগ্রামের আমিরাবাদ এলাকার নিয়াজ ও বোয়ালখালীর তানভীর। তাঁর দাবি, রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হলেও আবাসিক রিসোর্ট হিসেবে ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় অনুমতি ছিল না।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানান, প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগুনের সূত্রপাত, প্রাণহানির কারণ এবং ভবনটির নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থী লায়লা জাহান নাবিলার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানিয়েছেন। রিসোর্টের মালিকদের অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি পর্যটনকেন্দ্রের আবাসনব্যবস্থার নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং অনুমোদন যাচাইয়ের বিষয়গুলো নতুন করে সামনে এনেছে। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...