সোনালি আঁশ পাটে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষকেরা। চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন ও বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। ধান চাষে বারবার লোকসানের মুখে পড়ার পর পাটে কাঙ্ক্ষিত মুনাফার আশা জাগায় জেলায় এ ফসলের আবাদও বাড়ছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন চাষিরা। আগের বছরগুলোতে তুলনামূলক কম দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে যে হতাশা ছিল, চলতি মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় তা অনেকটাই কেটেছে।
সরেজমিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে চলছে পাট কাটা, নদী-নালায় জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ। এসব কাজে পুরুষদের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামের নারীরাও।
পাট কাটার কাজে নিয়োজিত অনেক দিনমজুর ও নারী শ্রমিক পারিশ্রমিক হিসেবে পাচ্ছেন পাটকাঠি। পরে সেই পাটকাঠি বাজারে বিক্রি করে তারা বাড়তি উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ মৌসুমে প্রায় ৬ হাজার পাটচাষি রয়েছেন। পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) জানান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বহুমুখী পাটপণ্যের চাহিদা বাড়ায় এবার বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পাটের আবাদ বাড়ানো ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি মৌসুমে জেলার এক হাজারের বেশি কৃষককে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে উন্নতমানের বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। পাটের আবাদ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সহায়তায় কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।