রাজশাহী

বগুড়ায় দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে হাট

বগুড়ার কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত ধান ও সবজির হাট বসায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান। সপ্তাহে দুই দিন বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে হাট বসায় নষ্ট হচ্ছে শিক্ষার পরিবেশ। পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে চার শতাধিক শিক্ষার্থী। হাট শেষে মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকছে ময়লা-আবর্জনা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পাওয়ায় অসহায় হয়ে পড়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, কাহালু উপজেলা সদর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে দুর্গাপুর বাজার। বাজারসংলগ্ন ৫৩ শতক জায়গার ওপর ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শুক্রবার দুর্গাপুর বাজারে হাট বসে। সকালে ধানের হাট এবং বিকেলে বসে সবজির হাট। দীর্ঘদিন ধরে বাজারের নির্ধারিত জায়গায় সংকুলান না হওয়ায় বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করে হাট বসানো হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকেরা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ভটভটিতে করে ধান ও সবজি নিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে আসেন। সেখানে পণ্য বিক্রি করেন তারা। হাটের দিন সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের মাঠে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়, হাঁকডাক ও যানবাহনের শব্দে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। এতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হয়। হাটে আসা যানবাহনের কারণে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়। ধুলাবালি ও ময়লা-আবর্জনায় নষ্ট হচ্ছে বিদ্যালয়ের পরিবেশ।

শিক্ষার্থীরা জানায়, সকালে ধানের হাট এবং পরে সবজির হাট বসায় বিদ্যালয়ের মাঠে খেলাধুলা করা যায় না। হাটের দিন বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ ও বের হতেও তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হাট শেষ হওয়ার পরদিন মাঠে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা।

এ ছাড়া হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা বিদ্যালয়ের শৌচাগারও ব্যবহার করেন। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির সময় অনেক হাটুরে বিদ্যালয়ের বারান্দা এমনকি শ্রেণিকক্ষেও আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, হাট বসার কারণে পাঠদানের সময় শিক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। পাশাপাশি ধুলাবালি ও ময়লা-আবর্জনায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ পাশে থাকা শহীদ মিনারও হাট বসার কারণে অমর্যাদার শিকার হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ বিঘ্নিত করে বিদ্যালয়ের মাঠে হাট না বসানোর জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘেরা এবং প্রবেশের জন্য গেটও নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো ঠেকানো যাচ্ছে না। বিষয়টি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

তবে হাটের ইজারাদার দাবি করেন, হাটের জায়গা যেমন সরকারি, বিদ্যালয়ের জায়গাও সরকারি। বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো নিয়ে স্থানীয় লোকজন কোনো দিন আপত্তি জানাননি। তাঁর দাবি, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসলেও শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হয় না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটটির আয়তন প্রায় এক একর। হাট এলাকায় কয়েকটি সেড ও পাকা স্থাপনাও রয়েছে। তবে স্থান সংকুলান না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার করে হাট পরিচালনা করা হচ্ছে।

অতীতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে হাটটি ইজারা নেওয়া হলেও বর্তমানে স্থানীয় যুবদল নেতার মাধ্যমে হাটটি ইজারা নেওয়া হয়েছে।

কাহালু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠে হাট না বসানোর জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

কাহালু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মলিহা খানম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, শিশুদের স্বাভাবিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও মানসিক বিকাশের স্বার্থে বিদ্যালয়ের মাঠে হাট বসানো বন্ধ করে বিকল্প স্থানে হাট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হোক।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel