রংপুর বিভাগ

জলঢাকায় জ্বালানী তেল শুন্য তেল পাম্প মধ্য রাতে বড় বড় জারকিনে তেল বিক্রি করে সংকট তৈরীর চেষ্টা

জলঢাকা, নীলফামারী প্রতিনিধি : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানী তেল সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর নীলফামারীর জলঢাকায় হঠাৎ বেড়ে গেছে পেট্রল ও অকটেনের বিক্রি। প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশী তেল কিনতে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন সমুহে ভিড় করায় পেট্রল ও অকটেনের মজুত শেষ হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশী ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তবে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে কিছু অসাদু ব্যবসায়ি খোলাবাজারে বেশী দামে বিক্রির জন্য জারকিনে তেল বিক্রি করছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কোথাও পেট্রল ও অকটেন নেই, কোথাও আবার সীমিত পরিমাণে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক পাম্পে তেল নিতে এসে খালি হাতে ফিরছেন গ্রাহকরা। এই সুযোগে খোলা বাজারের বিভিন্ন দোকানে প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ শত টাকায়।

পৌর শহরের আলা এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পেট্রল না থাকায় মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় জমেছে। তেল না থাকায় অনেকেই অনুরোধ করলেও কাউকে সরবরাহ করতে পারেনি।

এদিকে সন্ধ্যায় তেল আসার পর মধ্য রাতে তারা জারকিনে তেল বিক্রি করছে গ্রাহকদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রেখে।

মা ও -সন্তানকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই পাম্পের কাছে মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে বিপাকে পড়েন বালাগ্রামের বাসিন্দা মোঃ জুয়েল চৌধুরী। তিনি বলেন,কয়েক দিন ধরে তেল সংকটের গুজব শুনছিলাম, কিন্তু গুরুত্ব দিইনি। আজ বের হয়ে এসে দেখি পাম্পে তেল নেই। শেষ পর্যন্ত এক মোটর সাইকেল চালক কিছু তেল দিয়ে আমাকে যেতে সাহায্য করেছেন।”

বাদুর দর্গা ফিলিং স্টেশনের প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎ করেই পেট্রল বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ২০০ লিটার পেট্রল বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ডিজেল ছাড়া অন্য কোনো জ্বালানী তেল নেই। রোববার নতুন চালান আসার কথা রয়েছে।
তিন থানার মোড় এলাকার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পেট্রল ও অকটেন শেষ হয়ে যাওয়ায় কার্যক্রম প্রায় বন্ধ। সিয়াম ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, শনিবার দুপুর থেকেই পেট্রল ও অকটেনের মজুত শেষ। নতুন সরবরাহ পেলেই বিক্রি শুরু হবে।

তেল নিতে এসে সেলিম বলেন, “একটার পর একটা পাম্প ঘুরেও তেল পাচ্ছি না। কোথাও তেল নেই, কোথাও আবার পাম্পই বন্ধ।”
আলা এন্ড ব্রাদার্স তেল পাম্পের মালিক বলেন, “জ্বালানি তেলের প্রকৃত সংকট নেই, আতঙ্ক থেকেই মানুষ প্রয়োজনের কয়েকগুণ বেশি তেল কিনছেন। আগে ১০০ টাকার তেল নেওয়া গ্রাহক এখন ১ থেকে ২ হাজার টাকার তেল নিতে চাইছেন। তাই সবাইকে তেল দিতে সীমিত বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

এদিকে হঠাৎ সৃষ্ট এ পরিস্থিতিতে অনেক মোটরসাইকেল চালক ও গ্রাহকের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করতে পাম্প মালিকদের একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। এদিকে এক মোটরসাইকেল চালক বলেন আলা এন্ড ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশনে এই রাতে আমি আমার মোটরসাইকেলে ১০০০/- টাকার তেল চাইলে আমাকে ৭০০/- টাকার তেল দেওয়া হয়।অন্যদিকে দেখি পাম্প কতৃপক্ষ এই মধ্য রাতে বেশী মুনাফার আসায় বড় বড় জারকিনে মজুদ করার জন্য তেল বিক্রি করছে গ্রাহকদের ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রেখে।

পাম্প মালিকরাও অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, গুজবের কারণে অস্বাভাবিক চাহিদাই সাময়িক সংকটের মূল কারণ।

জেলা পেট্রলপাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আকতার হোসেন বলেন, “গুজবের কারণে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অস্বাভাবিক পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হয়েছে। আবার শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেক পাম্প মালিক সময়মতো পে-অর্ডার করতে পারেননি। যাঁরা আগে পে-অর্ডার করেছিলেন, তাঁরা শনিবার ডিপো থেকে তেল পেয়েছেন। রোববার থেকে সব পাম্পেই সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌসী হ্যাপী বলেন, উপজেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেওয়া রয়েছে। সোমবার থেকে এসব পাম্পে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি বা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সচেতন মহল বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজবে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতাই সাময়িক এ সংকটের প্রধান কারণ। তাই গুজবে কান না দিয়ে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel