রংপুর বিভাগ

শ্যামাসুন্দর খাল পুনরুদ্ধারে ধীরগতি, জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে চান প্রতিমন্ত্রী

রংপুর নগরের শ্যামাসুন্দর খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের এক বছরে কাজ এগিয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ। বাকি ৮২ শতাংশ কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। একই সঙ্গে খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং পুনরুদ্ধারের পর খালের পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের বিষয়েও পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে নগরের ডিসির মোড় এলাকায় শ্যামাসুন্দর খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক বছরে প্রকল্পের প্রায় ১৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এখনো ৮২ শতাংশ কাজ বাকি। প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করতে তিনি সেখানে গেছেন। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শ্যামাসুন্দর খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পে প্রায় ১৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি রংপুর সিটি করপোরেশনও প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আগামী বছরের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করে প্রকল্পের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে চান তাঁরা।

খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিষয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির পরিচয়, রাজনৈতিক দল, মত বা ধর্ম বিবেচনায় নেওয়া হবে না। যে-ই অবৈধভাবে খাল দখল করে থাকুক, তাকে উচ্ছেদ করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, রাতে অনেকে প্লাস্টিকে বেঁধে খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড শনাক্ত করতে ক্যামেরা বসানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কোন বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে, তা শনাক্ত করে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে জরিমানা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

খাল পুনরুদ্ধারের পর এর পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, শ্যামাসুন্দর খাল আবার প্রাণ ফিরে পাক—এটি রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। খালের পুনরুদ্ধারকাজের পাশাপাশি ওয়াকওয়ে নির্মাণের বিষয়টিও তাঁদের ভাবনায় রয়েছে।

প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করাকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, প্রকৌশলীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করছেন। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ কাজ শেষ হলে বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিতে চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এমনভাবে বাস্তবায়ন করতে চান, যাতে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের যে দুর্ভোগ রয়েছে, তা কমানো সম্ভব হয়।

📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের ইনস্টাগ্রাম ভিজিট করুন।

এই বিভাগের আরো খবর
❮
Follow Us
Facebook Page Facebook Group WhatsApp Channel
✖
আমাদের সাথে Facebook-এ থাকুন
Facebook Page লোড হচ্ছে...