ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সংগ্রামী, তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী ও ‘নাচোলের রানি’খ্যাত বিপ্লবী ইলা মিত্রের ২৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠা, শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং ইলা মিত্রের রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গাইবান্ধার দারিয়াপুর তেঁতুলতলায় ইলা মিত্র স্মৃতি পাঠাগার কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। শুরুতে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
ইলা মিত্র স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার বর্মনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জেলা সভাপতি ও পাঠাগারের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এবং ছাত্রনেতা ওয়ারেছ সরকার। এ সময় শিক্ষার্থী মৌমিতা ফেরদৌসী দিশা ও আশিকা আক্তার ইলা মিত্রের জীবনী পাঠ করেন।
আলোচনায় বক্তারা জানান, ঝিনাইদহে জন্ম নেওয়া ইলা মিত্র কলকাতায় বেড়ে ওঠেন। খেলাধুলায় পারদর্শী ইলা মিত্র অ্যাথলেটিকসেও সাফল্য অর্জন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মহিলা আত্মরক্ষা সমিতির কার্যক্রমে যুক্ত হন।
জমিদার পরিবারের পুত্রবধূ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে যাওয়ার পর তিনি সাঁওতাল নারীদের শিক্ষার প্রসারে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষকতার কাজে যুক্ত হন। পরে কৃষকের অধিকার আদায়ের তেভাগা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং কৃষকদের সংগঠিত করেন।
কৃষক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের দমন-পীড়নের শিকার হন ইলা মিত্র। গ্রেপ্তারের পর তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে মুক্তি পেয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চলে গেলেও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে যান তিনি। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার কারাবরণ করেন এবং চারবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।