সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় ছাগলের পিপিআর রোগের প্রাদুর্ভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ থেকে ৪০টি ছাগল মারা গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খামারি ও ছাগল পালনকারীরা। এর মধ্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে পিপিআর ভ্যাকসিনের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও বেড়েছে।
স্থানীয় ছাগল পালনকারী আবুল হোসেন, মোয়াজ্জেম হোসেন ও রাসিদা খাতুন জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছাগল অসুস্থ হয়ে পড়ছে এবং মারা যাচ্ছে। সময়মতো টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে রোগটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
ছাগল পালনকারীদের অভিযোগ, রোগের প্রাদুর্ভাবের সময় প্রয়োজনের তুলনায় ভ্যাকসিনের সরবরাহ কম থাকায় অনেক ছাগলকে সময়মতো টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে ক্ষুদ্র খামারি ও প্রান্তিক পর্যায়ের ছাগল পালনকারীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশের আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় পিপিআর ভ্যাকসিনের চাহিদা প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ডোজ। এর বিপরীতে মজুত ছিল মাত্র ১৬ হাজার ডোজ। বর্তমানে সেই মজুতও শেষ হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অনেকেই বাড়তি আয়ের আশায় ছাগল পালন করেন। তাঁদের কাছে ছাগল জীবিকা নির্বাহ ও সঞ্চয়ের অন্যতম অবলম্বন। রোগে ছাগল মারা যাওয়ায় এসব পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে স্বল্প পুঁজির পরিবারগুলোর জন্য এ ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে দ্রুত পর্যাপ্ত পিপিআর ভ্যাকসিন সরবরাহ, আক্রান্ত এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবা, রোগের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় খামারি ও ছাগল পালনকারীরা।
তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিন কম পাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত ভ্যাকসিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। সরবরাহ পাওয়া গেলে দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে ছাগলের মৃত্যু কমানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র খামারিদের আর্থিক ক্ষতিও সীমিত রাখা সম্ভব হবে।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।