দিনাজপুরে থামানোর সংকেত উপেক্ষা করে ট্রাক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন চালক। তাঁকে আটকাতে চলন্ত ট্রাকের দরজার হাতল ধরে ঝুলে পড়েন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সিপাহি শাহিনুর সরকার। প্রায় ৩০ মিনিটে ৫০ কিলোমিটার পথ ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দিয়ে কৌশলে উঠে যান ট্রাকের খালি ডালায়। এরপর প্রায় আড়াই ঘণ্টার ধাওয়া শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ধানখেতে ট্রাক ফেলে পালানোর সময় ধরা পড়েন চালক।
এই অভিযানে ট্রাক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৬ হাজার ৫০০টি ইয়াবা বড়ি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের একটি ট্রাক ও ২৭ হাজার টাকা মূল্যের একটি মুঠোফোন। সব মিলিয়ে জব্দ করা মালামালের আনুমানিক মূল্য ৭২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।
আজ বুধবার দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত জানান অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁরা জানতে পারেন, একটি আইশার কোম্পানির ট্রাকে করে ইয়াবার বড় একটি চালান ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে নেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে ডিএনসির একটি দল দিনাজপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে অবস্থান নেয়।
বুধবার ভোরের দিকে ট্রাকটি স্পিড ব্রেকারের কাছে পৌঁছালে থামার সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু চালক গতি না কমিয়ে ট্রাকটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সিপাহি শাহিনুর সরকার ট্রাকের হেলপারের পাশের দরজার হাতল ধরে আটকে যান। দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকা ট্রাকটির সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। প্রায় ৩০ মিনিট ও ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর একপর্যায়ে কৌশলে হাতল ছেড়ে ট্রাকের পেছনের খালি ডালায় উঠে আশ্রয় নেন।
এদিকে ডিএনসির অন্য সদস্যরা পেছন থেকে ট্রাকটির ধাওয়া অব্যাহত রাখেন। দিনাজপুর থেকে সেতাবগঞ্জ হয়ে পীরগঞ্জের দিকে যেতে থাকে ট্রাকটি। ধাওয়া এড়াতে চালক বারবার পথ পরিবর্তন করে বিভিন্ন আঁকাবাঁকা সড়ক দিয়ে ট্রাক চালাতে থাকেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে দীর্ঘ হয় অভিযান।
একপর্যায়ে ধাওয়াকারী গাড়ির জ্বালানি ফুরিয়ে যায়। ট্রাকটি সীমান্ত এলাকার দিকে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় আগেই দিনাজপুরের ৪২ বিজিবির সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। পরে বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডিএনসির কর্মকর্তারা তাঁদের গাড়িতে উঠে আবারও ট্রাকটির পিছু নেন।
প্রায় আড়াই ঘণ্টার ধাওয়া শেষে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে পৌঁছায় ট্রাকটি। রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পাকা সড়কের নিচে ধানখেতে ট্রাকটি ফেলে চালক ও হেলপার পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ডিএনসির কর্মকর্তারা চালককে আটক করতে সক্ষম হন। তবে হেলপার পালিয়ে যান।
অভিযানের একপর্যায়ে ট্রাকে থাকা সিপাহি শাহিনুর সরকার অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ট্রাকচালকের নাম মো. সবুজ (৩০)। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার চ্যাংমারী (সম্পদবাড়ী), ধর্মগড় এলাকার সহিবুর রহমানের ছেলে। পলাতক হেলপারের নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ স্বীকার করেছেন, তিনি ঢাকা থেকে ইয়াবার চালানটি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িত একজনের নামও জানিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে আপাতত তাঁর পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।
ট্রাকটির মালিক হিসেবে মো. হাসান আলীর নাম পাওয়া গেছে জানিয়ে হারুন অর রশিদ বলেন, ইয়াবা পরিবহনের সঙ্গে ট্রাকমালিকের কোনো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁকেও অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।