দিনাজপুর প্রতিবেদক: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু থাকা মিড ডে মিল কর্মসূচিতে খাবারের বৈচিত্র্য আনতে দিনাজপুরের বিরামপুরে কুপন পদ্ধতির পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের একমাত্র নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে বিরামপুর পৌর এলাকার শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১১টায় এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিরামপুর উপজেলার ১১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিড ডে মিল কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনা এবং শিশুদের খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন এ কুপন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এ পাইলট প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে স্থান পেয়েছে বিরামপুরের শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নতুন এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা ডিম ও কলার পাশাপাশি কুপন জমা দিয়ে নির্ধারিত দোকান থেকে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। খাবারের তালিকায় রয়েছে বনরুটি, কিশমিশ, বাদাম, ড্রাই কেক, খেজুর ও বিস্কুট। প্রতিদিন শিক্ষার্থীপ্রতি ৩৫ টাকা মূল্যের এ খাবার সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে একই ধরনের খাবারের পরিবর্তে শিশুরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, খাবারে বৈচিত্র্য আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিড ডে মিল কর্মসূচির প্রতি আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অভিভাবকরাও নতুন এ পদ্ধতির মাধ্যমে শিশুদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুজ্জামানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তানজিনা খাতুন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিঞা মোঃ শফিকুল আলম মামুন, সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর এলাহী চৌধুরী রুবেল, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবীর, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজু, শান্তিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি লুৎফর রহমান ও সহ-সভাপতি সানোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইএসডিওর স্কুল ফিডিং কর্মসূচির জেলা ব্যবস্থাপক শাহ মোঃ আমিনুল হক, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী কবির রেজা, বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় ও বৈচিত্র্যময় খাবারের ব্যবস্থা করা হলে তারা বিদ্যালয়ে আসতে আরও উৎসাহিত হবে। শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, পাইলট প্রকল্পটির কার্যক্রম সফল হলে ভবিষ্যতে এ পদ্ধতি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।