দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ “পরিবর্তনের জন্য তরুণীদের ঐক্যবদ্ধকরণ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিনাজপুরে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে এক যৌথ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬ স্থানীয় পল্লীশ্রী’র’ মিলনায়তনে ইয়াং উইমেন্স খ্রীষ্টীয়ান এসোসিয়েশন (YWCA)-এর আয়োজনে এবং ‘দিনাজপুর রাইজআপ! টিম’-এর সার্বিক সহযোগিতায় দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালিত হয়। মনোজ্ঞ উদ্বোধনী নৃত্য, নিবন্ধন ও পরিচিতি পর্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।
সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি সাবলীলভাবে সঞ্চালনা করেন কাকন আইরিন সেন। প্রারম্ভিক পর্বে ‘রাইজআপ!’ প্রকল্পের সার্বিক লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সমাজকল্যাণমূলক দিকগুলো উপস্থাপন করেন রিবিকা মৃধা দীপান্বিতা। এছাড়া সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে অনুপ্রেরণামূলক ‘চেঞ্জ স্টোরী’ পরিবেশন করেন ইমাকুলাতা কুহেলী হেমব্রম।
অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ ছিল বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের উপায় ও করণীয় সংক্রান্ত একটি প্যানেল আলোচনা, যা যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন লিপা লাকড়া। প্যানেল আলোচনায় সরকারি কর্মকর্তা ও মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট সিরাজুম মনিরা বলেন, “বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে আইনি সহায়তা জোরদার করার পাশাপাশি প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিচারপ্রাপ্তি সুগম করা অত্যন্ত জরুরি।
শহর সমাজ সেবা অফিসার মোঃ মাইনুল ইসলাম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির নানা ইতিবাচক দিক তুলে ধরে যুব সমাজকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর দিনাজপুরের ওসিসি (OCC) প্রোগ্রাম অফিসার মোছাঃ সাবিহা বিনতে আনোয়ার ১০৯ হেল্পলাইনের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ ও প্রক্রিয়া তুলে ধরে তার বক্তব্যে বলেন যে, দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিন নিয়মিতভাবে বাল্যবিয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ফোনকল এবং তথ্য পাওয়া যায়।
১০৯ হেল্পলাইনে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় কখনোই জানতে চাওয়া হয় না। স্বজন বা পরিচিত ব্যক্তিদের বিয়ে ঠেকানোর পর সামাজিক বা পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি এবং নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়। কোনো সংবাদ বা ফোন পাওয়া মাত্রই সুনির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করা হয়। স্থানটি নিশ্চিত করার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (DC), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO), উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (OC) অবহিত করা হয়, যাতে ঘটনাস্থলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
YWCA দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক পপি ফ্লোরেন্স লাকড়া নারী উন্নয়ন, ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁদের সংগঠনের অতীত ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
প্যানেল আলোচনা শেষে লিপা লাকড়া ও রিবিকা মৃধা দীপান্বিতার পরিচালনায় একটি উন্মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে একটি কার্যকর দলীয় আলোচনার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ বন্ধে একটি টেকসই ভবিষ্যৎ সামাজিক অ্যাডভোকেসী রূপরেখা তৈরি করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘বাংলাদেশ রাইজআপ! টিম’-এর ইয়ুথ লিড খ্রীষ্টিনা দিয়া বালা এবং ইয়ুথ ফ্যাসিলিটেটর ফিওনা এষা সরকার। বক্তারা তরুণ সমাজকে দেশের সামাজিক উন্নয়নে সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন এবং যুব নেতৃত্বের বিকাশ সাধনে সকল সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
পরিশেষে YWCA দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক পপি ফ্লোরেন্স লাকড়া উপস্থিত সকল অংশগ্রহণকারী সকলকে, বিশেষ অতিথি এবং সহযোগী সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকা ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে দিনব্যাপী এই অর্থবহ আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
📷 ইনস্টাগ্রাম নোটিশ:
সার্ভারে জায়গা স্বল্পতার কারণে ছবি সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। ছবি পেতে আমাদের
ইনস্টাগ্রাম
ভিজিট করুন।